Information News

সৌদিতে শিগগিরই ২০ হাজার নারীকর্মী যাবে
Date Added: 2015-05-30

Description

রোজার আগেই সরকার সৌদি আরবে ২০ হাজার নারীকর্মী পাঠাবে। এ লক্ষ্যে সারা দেশে নারী গৃহকর্মী বাছাই করা হচ্ছে। এ তথ্য জানিয়ে সরকারি সূত্র বলছে, ৩০ মে পর্যন্ত দেশের ৪২টি জেলায় সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী বাছাই চলবে। জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয় এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো এ বাছাই কাজ করছে।


প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘সৌদি আরব ৩০ হাজার নারীকর্মীর চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে। তবে রোজার আগেই ২০ হাজার নারী শ্রমিককে দেশটিতে পাঠাবে বাংলাদেশ। ১০০টি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সারা দেশ থেকে ২০০ জন করে নারী শ্রমিক সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। এই নারীদের যেতে কোনো টাকা লাগবে না।’


নারীকর্মীদের বেতন প্রসঙ্গে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘নারীকর্মীদের জন্য ৮০০ রিয়াল বেতন ধরা হয়েছে, এরপর যত বাড়ানো যায়।’


পুরুষকর্মীরা কবে যাবেন, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, নারীরা যাওয়া শুরু করুক। পুরোপুরি বাজার চালু হয়ে গেলে পুরুষেরাও যাওয়া শুরু করবে। খন্দকার মোশাররফ জানিয়েছেন, ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সি ২০০ জন করে নারীকর্মী পাঠাবে। এ জন্য সারা দেশে বাছাই সম্পন্ন হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১২ কপি ছবি, পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম-নিবন্ধন সনদ, স্থানীয় চেয়ারম্যানের সনদ আনতে হবে।


যারা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে যাবেন, তাঁদের ন্যূনতম বেতন হবে প্রায় ১৭ হাজার টাকা। ওভারটাইমসহ তা ২০ হাজার টাকা হবে। চাকরির মেয়াদ হবে দুই বছর। পরিবারের সদস্যদেও সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ থাকবে। কর্মক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা যাবে। এই কর্মীদের পাঠানোর আগে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, সরকার সেই খরচ বহন করবে। গত ১৪ মে সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপমন্ত্রী আহমেদ আল ফায়াদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এরপর এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৪৬৩ জন বাংলাদেশিসে দেশে গেছেন। ২০০৮ সাল থেকে নতুন করে ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয় সৌদি আরব। এতে ২০০৭ সালে যেখানে দুই লাখ চার হাজার ১১২ জন ও ২০০৮ সালে এক লাখ ৩২ হাজার কর্মী সৌদি আরবে যায়। ২০০৯ সালে মাত্র ১৪ হাজার ৬৬৬ জন কর্মী যায় দেশটিতে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত একই পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল।


বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘মাসে ১০ হাজার বা রোজার আগেই ২০ হাজার মেয়ে সৌদি আরবে কাজ করতে যাবে শুনতে খুব ভালো লাগছে। কিন্তু আমরা চাই না সৌদি আরবে মেয়েরা সমস্যায় পড়ুক। আমরা চাই মেয়েরা যাক। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মেয়েদের সৌদি আরবে পাঠানো হোক।’


সৌদি আরবে গৃহকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘মেয়েদের নিরাপত্তা বিধান করেই সৌদি আরবে পাঠানো হবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।’ কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে-জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে কোন ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই মেয়েরা বিদেশে যেতেন। কিন্তু এখন তাদের ২১ দিনের একটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর কোনো মেয়ে এখন পর্যন্ত বিপদে পড়েননি। আমরা নিশ্চিত না হয়ে কাউকে সেখানে পাঠাব না। সৌদি আরবে যাঁরা যাবেন, তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়েই পাঠানো হবে।’


জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনে অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সভাপতি আবুল বাসার  বলেন, ‘সৌদি আরবগামী বাংলাদেশের মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরাও কথা বলেছি। সৌদি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাঁদের পাঁচজন এবং আমাদের পাঁচজন প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি করা হবে। এই কমিটি কোনো নির্যাতনের খবর পেলেই আইনি ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি বলেন, সৌদি আরবে একেকজন নারীকর্মী পাঠানোর জন্য জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এক হাজার ডলার করে পাবে। কাজেই কোনো নারীকে কোনো টাকা দিতে হবে না।

 

Preview

No Preview

 

Download

 

Share on Facebook Share on Twitter

 

Upload Your Resume

Posting CVs on Eurojobs.com is completely FREE. You can manage all your applications and vacancies from within your account.

Upload Your Resume

Find Job Now

We connect you to the employer you deserve - all over the world through online events, face-to-face summitsand dedicated recruiting projects.

Find A Job Now